বেঁচে থাকলে ৩০ অক্টোবর দিয়েগো ম্যারাডোনার বয়স হতো ৬৫ বছর। সেই ম্যারাডোনা, যিনি ফুটবলকে একটি শিল্পে সুশোভিত করেছিলেন। তার অনিন্দ্যসুন্দর ফুটবলশৈলী বিমোহিত করেছিল বিশ্বকে। বুয়েনস এইরেসের উপকণ্ঠে নোংরা রাস্তা থেকে উঠে এসে বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়ানো ম্যারাডোনার জীবন ম্যাজিকের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। সকাল দেখে যেমন বোঝা যায় দিনটা কেমন যাবে, তেমনই ছোট্ট ম্যারাডোনাকে দেখেও বোঝা গিয়েছিল ফুটবল খেলার জন্যই তার জন্ম। ওইটুকু বয়সেই তার ড্রিবলিং-দক্ষতায় অবাক হতো পথচারীরা। যেন বল তার পায়ে আঠা দিয়ে কেউ সাঁটিয়ে দিয়েছে। উল্কার গতিতে তার উত্থান ছিল বিস্ময়কর। মাত্র ১৫তেই আর্জেন্টিনা জুনিয়র দলে অভিষেক। ১৬তে ‘গৃহপ্রবেশ’ আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে।
ম্যারাডোনা কি শুধু মাঠে প্রতিপক্ষের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন, ডিফেন্ডারদের পরাস্ত এবং গোলপ্রহরীকে বোকা বানাতেন? তিনি দারিদ্র্য, কুসংস্কার এবং রাজনীতির ভণ্ডামির বিরুদ্ধেও লড়াই করতেন, যা সেসময় আর্জেন্টিনার সমাজকে কুরে কুরে খাচ্ছিল। এরপর এলো ১৯৮৬ মেক্সিকো বিশ্বকাপ। মূর্ত হয়ে উঠল তার ঈশ্বর প্রদত্ত প্রতিভা। অমরত্বের আকাশে সহস্র সূর্য হয়ে জ্বলে উঠলেন ম্যারাডোনা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ফুটবলবিশ্ব দেখল তার দুই রূপ। বৈপরীত্যে, বৈচিত্র্যে উদ্ভাসিত হলো ম্যারাডোনার দুই সত্তা। এক, হ্যান্ড অব গড। ঈশ্বরের হাত। হাত দিয়ে গোল। বিশ্ব দেখল। শুধু দেখলেন না রেফারি। ম্যারাডোনার ম্যাজিক রূপ নিল মিথে। দুই, দ্য গোল অব দ্য সেঞ্চুরি। শতাব্দীসেরা গোল।