বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৯ অপরাহ্ন

শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামের নিরাপত্তায় স্বশস্ত্র আনসার মোতায়েন

মোস্তফা মোঘল :
  • Update Time : শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৯১ Time View

বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম আধুনিকায়নের প্রক্রিয়া শুরুর সাথে সাথে স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই বিসিবি’র আহ্বানে সাড়া দিয়ে এক প্লাটুন অস্ত্রধারী আনসার সদস্য মোতায়েন করেছে স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয়। এর ফলে স্টেডিয়ামের নিরাপত্তার পাশাপাশি এই স্টেডিয়ামকে ঘিরে গড়ে ওঠা ছিনতাই ও মাদক সিন্ডিকেট দমন সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানাগেছে, ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর একান্তিক প্রচেষ্টায় শহীদ চান্দু জেলা স্টেডিয়াম বেঙ্গে আধুনিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়। ২০০৪ সালে এই ষ্টেডিয়ামে অনুর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ আয়োজন করে প্রশংসিত হয় বগুড়া। আউটফিল্ড এবং উইকেটের মান নিয়ে বিশ্বখ্যাত ক্রিকেটাররা প্রশংসা করলে রাতরাতি শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামের খ্যাতি বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুততম সময়ে ফ্লাডলাইট স্থাপন করা হয়।

২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক ভেন্যুর মর্যাদা পায় এই স্টেডিয়াম। কিন্তু ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচের পর হঠাৎ এই ষ্টেডিয়ামের কথা ভুলে যায় বিসিবি! প্রায় দেড় যুগ কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন হয়নি। ফলে আইসিসি নিয়ম অনুযায়ী স্টেডিয়ামের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাতিল করে।

অবহেলায় পড়ে থাকা স্টেডিয়াম হয়ে পড়ে নিরাপত্তাহীন। রাতের আঁধারে চুরি হতে থাকে ফ্লাডলাইটের তার ও বাতি। সেই সাথে ছিনতাইকারী ও মাদকসেবীদের আস্তানায় পরিনত হয় স্টেডিয়াম এলাকা। নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ফাঁড়ী স্থাপন করা হলেও তারা স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামের সংস্কারের উদ্যোগ নিলে সবার আগে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হয়।

বিসিবির পক্ষ থেকে স্বরাস্ট্র মন্ত্রণারয়ে আবেদনের প্রেক্ষিতে চলতি মাসের ৫ তারিখ হতে ১৬ সদস্যের স্বশস্ত্র আনসার বাহিনী সার্বক্ষণিকভাবে মোতায়েন করা হয়।

দায়িত্বরত প্লাটুন কমান্ডার আব্দুল জলিল জানান, ৫ জুলাই হতে শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামের নিরাপত্তার দায়িত্ব তারা বুঝে নিয়েছেন। স্টেডিয়ামের পুরাতন মিডিয়া বক্সে আপাতত: ক্যাম্প করেছেন তারা। তার একজন প্লাটুন কমান্ডার, দুজন অতিরিক্ত প্লাটুন কমান্ডার এবং ১৪জন সিপাহী রয়েছেন ক্যাম্পে। আনসার সদস্যরা পালাক্রমে স্টেডিয়ামের মূল গেটে চব্বিশ ঘন্টা ডিউটি পালন করছেন। রাতের বেলা অতিরিক্ত টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাধারণের প্রবেশাধিকার সংকুচিত করা হয়েছে। পরিচয়পত্র ছাড়া অপরিচিত কাউকে স্টেডিয়ামের মূল গেট পার হতে দেওয়া হচ্ছেনা। এর ফলে অতীতে সংঘটিত চুরি, ছিনতাই এবং মাদকসেবীদের আড্ডা দমন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।

শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামের ভেন্যু ম্যানেজার জামিলুর রহমান জামিল বলেন, স্টেডিয়ামের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করেও চুরি ঠেকানো সম্ভব হয়নি। আনসার সদস্যদের মোতায়েনের ফলে স্টেডিয়ামের সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে আমরা মনে করছি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 khelarpoka.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin