৯৯ রানে অপরাজিত আছেন তিনি
নিজের শততম টেষ্ট ম্যাচে ব্যাট করতে নেমে নতুন ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে মুশফিকুর রহীম। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২য় টেস্টের প্রথম ইনিংসে তিনি ৯৯ রানে অপরাজিত আছেন। প্রথম দিনের খেলা শেষ হওয়ায় এক রানের অপেক্ষা নিয়েই দিন শেষ হলো বাংলাদেশের।
চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ৫টি বাউন্ডারির সাহায্যে ১৮৭ বলে ৯৯ রানে অপরাজিত আছেন মুশফিকুর রহীম।
বাংলাদেশের রান প্রথম দিন শেষে ৪ উইকেটে ২৯২। মুমনিুল ৬৫, মাহমুদল হাসান জয় ৩৫ এবং সাদমান ইসলাম করেছেন ৩৪ রান।
আয়ারল্যান্ডের এ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন একাই নিয়েছেন ৪ উইকেট।
শততম টেস্টে নামার আগে খানিকটা আবেগপ্রবণ হয়ে পরেছিলেন মুশফিকুর রহিম। ঢাকা টেস্টের প্রথম দিনে টসের পর তাকে ঘিরেই কত আয়োজন। পরিবার, সতীর্থ, কোচ ও ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়ে মুশফিক শোনান, একশভাগ দেওয়ার প্রত্যয়।
২০০৫ সালে লর্ডসে হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বে নিজের অভিষেক টেস্ট ম্যাচ খেলেছিলেন মুশফিক। সে ম্যাচে অধিনায়ক বাশারই অভিষেক টেস্টের ক্যাপ পরিয়েছিলেন মুশফিককে। বুধবার (১৯ নভেম্বর) শততম টেস্টের আগেও সেই বাশারের কাছ থেকে স্মারক ক্যাপ পেলেন মুশি। যা পেয়ে যারপরনাই খুশি মি. ডিপেন্ডএবল।
মুশফিকের ভাষায়, ‘আল্লাহকে ধন্যবাদ এমন দারুণ একটা সুযোগের জন্য। যারা উপস্থিত আছেন আপনাদের সবাইকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমার পরিবারের সব সদস্য, বাবা-মাকে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। বিশেষত আমার স্ত্রীকে, যে অনেক নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে। আমার সতীর্থ, কোচ, বন্ধু ও সব ভক্তদেরও ধন্যবাদ জানাতে চাই।’
বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে মুশফিক বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানাই। আমিও বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এক শ ভাগ দেব, যেমনটা সব সময় চেষ্টা করি। আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট দলকেও ধন্যবাদ।’
মুশফিকের শততম ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখতে আয়োজনের কমতি রাখেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মুশফিকের জন্য বিশেষ ক্যাপ, বিশেষ জার্সি, স্মারক—সবকিছুই রেখেছে বোর্ড। ঢাকা টেস্টের প্রথম দিনে এখন ৩ রানে ব্যাট করছেন মুশফিক। দ্বিতীয় সেশন পর্যন্ত বাংলাদেশ দল ৩ উইকেট হারিয়ে তুলেছে ১০১ রান।
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে মাঠে চলে আসা, একা একা অনুশীলন করা, জিমে-নেটে যাওয়া– মুশফিকুর রহিমের এই পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের কথা কমবেশি অনেকেরই জানা। যেটি তিনি জানাতে চান না তা হলো তাঁর ভেতরে জমে থাকা অনুযোগ আর অভিমানের পাহাড়ের কথা। তাঁর নেতৃত্বেই ইংল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্মরণীয় দুটি টেস্ট জিতেছিল বাংলাদেশ। অথচ মিডিয়াতে তার প্রাপ্য স্বীকৃতি তিনি পাননি। সে সময় ড্রেসিংরুমের বাইরে থেকে সাবেক এক অধিনায়ক তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে মিডিয়ার শিরোনাম হয়েছিলেন। কষ্ট পেয়েছিলেন ‘মিতু’। তাঁর ঘনিষ্ঠজনের কাছ থেকে শোনা। ড্রেসিংরুমে সবার সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশতে গিয়েও নীরব উপেক্ষা পেয়েছিলেন।
কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের ‘গুডবয়’ হতে পারেননি। কিপিং গ্লাভস ছেড়ে তাই একসময় শুধু ব্যাটটি বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু বাইশ গজের মাটি মুঠোছাড়া করেননি। সৃজন প্রেরণা যাঁকে কুড়ি বছর ধরে তাড়িয়ে বেরিয়েছে। বিশ্বাস করতে শিখিয়েছে পরিশ্রম আর পরিশ্রম– শুধু নিষ্ঠার সঙ্গে পরিশ্রম করলেই লক্ষ্য অর্জন হয়। তাঁর নিজস্ব নীতি, চিন্তা, দর্শন আর প্রত্যাশা এতটাই তীব্র যে দেশের হয়ে একমাত্র শততম টেস্ট খেলার পালক জুড়ে আছে তাঁর সেই রং উঠে যাওয়া প্রিয় টুপিটিতে। ‘ক্রিকেটার হিসেবে নয়, যখন খেলা ছেড়ে দেব তখন মানুষ মুশফিকুর রহিমকেই মনে রাখবেন।’ একবার কী কথার পিঠে যেন বলেছিলেন তিনি। সত্যিই বোধ হয় তাই– নিজস্ব রুচি, অভিমত ও ইচ্ছার নিরবচ্ছিন্ন অভিক্ষেপে একটি বৃত্ত তিনি তৈরি করে নিয়েছেন, যেখানে ভেদ করে ভেতরে কাউকে যাওয়ার অধিকার তিনি দেননি।