বাংলাদেশ জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ ক্রিকেটার সরবরাহে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করছে বগুড়া। মুশফিকুর রহীম, সফিউল ইসলাম সুহাস কিম্বা তানজিদ তামিম ও তাওহিদ হৃদয়দের পথ ধরে বয়স ভিত্তিক দলে একের পর এক নাম যুক্ত করে চলেছে বগুড়া। অনুর্ধ্ব-১৫, ১৭ জাতীয় দলে একাধিক উদীয়মান ক্রিকেটার জায়গা করে নেওয়ার পর এবার অনুর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়ছে আরও দুই উদীয়মান তরুণ। সদ্য ঘোষিত জাতীয় দলের ৪৫ জনের ক্যাম্পে ডাক পেয়েছে বগুড়ার ইলমান হাবিব এবং রিয়াদ সেখ।
জানাগেছে, অনুর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দল গঠনের লক্ষে সারাদেশ থেকে বাছাই করা ৪৫ জনকে নিয়ে ন্যাশনাল ক্যাম্প আয়োজন করছে ক্রিকেট বোর্ড। সেই ক্যাম্পে ডাক পেয়েছে বগুড়ার ছেলে ইলমান হাবিব এবং রিয়াদ সেখ। ইলমান হাবিব রাজধানীর ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে ষ্পোর্টস সায়েন্স বিভাগে অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র, রিয়াদ সেখ বগুড়ার বীট মডেল স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ছে। দুজনই স্থানীয় ইয়ং টাইগার্স ক্রিকেট একাডেমির নিয়মিত ছাত্র। তারা বগুড়া জেলার বিভিন্ন বয়স ভিত্তিক দলেও খেলে থাকে।
এর আগে অনুর্ধ্ব-১৫ জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছে আব্দুর রহমান ইরফান, বায়জিদ বোস্তামী এবং আফ্রিদি তারিক। অনুর্ধ্ব-১৭ দলে খেলেছে আকাশ রায় এবং শামস তৌফিক।
বিগত কয়েক বছর যাবত বিসিবি আয়োজিত বয়স ভিত্তিক অনুর্ধ্ব-১৪, ১৬ এবং ১৮ প্রতিযোগিতায় রাজশাহী বিভাগে ধারাবাহিকভাবে চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে বগুড়া জেলা। ফলে রাজশাহী বিভাগীয় বয়স ভিত্তিক দলে বগুড়ার অধিকাংশ ক্রিকেটার সুযোগ করে নিচ্ছে। পরবর্তীতে সেখান থেকে জাতীয় দলে খেলার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
বগুড়া জেলা দলের কোচ রিফাত হাসান বলেন, বগুড়ায় অসংখ্য প্রতিভাবান ক্রিকেটার রয়েছে। সঠিক পরিচর্যা করা গেলে আরও বেশি সংখ্যক তরুণ ক্রিকেটার জাতীয় দলে সরবরাহ করা সম্ভব।
ইয়ং টাইগার্স ক্রিকেট একাডেমির পরিচালক সাহেদুল ইসলাম রবি বলেন, আমরা একাডেমি প্রতিষ্ঠার পর থেকে অনেক প্রতিভাবান তরুণ ক্রিকেটার পেয়েছি, যারা নিজেকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বয়স ভিত্তিক বিভিন্ন দলে একাধিক খেলোয়াড় ডাক পাচ্ছে। আগামীতে আরও বেশি সংখ্যক ক্রিকেটার বগুড়া থেকে জাতীয় দলে খেলবে বলে আমি মনে করি।
বিসিবি প্রতিটি জেলায় একজন করে কোচ নিয়োগ দিলেও জেলা পর্যায়ে ক্রিকেটার তৈরির তেমন কোন উদ্যোগ চোখে পড়েনা।
জেলা ক্রীড়া সংস্থা ক্রিকেটারদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে না। বগুড়া জেলা দল বয়স ভিত্তিক প্রতিযোগিতা গুলোতে বারবার চ্যাম্পিয়ন হলেও এই সাফল্যের মূলে রয়েছে একাডেমির ভূমিকা। একাডেমিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৈরি ক্রিকেটাররাই মূলত: জেলা দলের হয়ে খেলে সাফল্য বয়ে আনছে। একাডেমির পাশাপাশি জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে দেশের ক্রিকেটে অনেক বেশি অবদান রাখতে সক্ষম হবে বগুড়া।